
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে দেয়াললিখন নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে বিজয় একাত্তর হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে পাল্টাপাল্টি দেয়াললিখনের এই ঘটনাটি ঘটে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে অন্তত ছয়জন সংবাদকর্মী শিকার হন হেনস্তা ও হুমকির।
গতকাল রাত ৮টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের হল সংসদ কক্ষের সামনের দেয়ালে ‘গুপ্ত’ রাজনীতিবিরোধী দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। এই কর্মকাণ্ডে বাধা দেন হল সংসদের ছাত্রশিবির প্যানেলের পাঠকক্ষ সম্পাদক তারেক রহমান শাকিব। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। ছাত্রদলের অভিযোগ, তাদের এক কর্মীর মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। অপরদিকে, হলের সৌন্দর্য নষ্ট করার অভিযোগ তুলে এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন হল সংসদের ভিপি হাসানুল বান্না।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল ‘গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক’ লিখে দেয়াললিখন করে, যার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ‘আদু ভাইদের ঠিকানা, আবাসিক হলে হবে না’ লিখে পাল্টা দেয়াললিখন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাউস টিউটর মিজানুর রহমান দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও কোন সমাধান বের হয়নি। ছাত্রদল তাদের দেয়াললিখন মুছতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
একই পরিস্থিতি দেখা গেছে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অতিথিকক্ষে, যেখানে ছাত্রদলের দেয়াললিখনকে ‘রাজনৈতিক নোংরামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন হল সংসদের নেতারা।
এই উত্তেজনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) ছয়জন সদস্য হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
বিজয় একাত্তর হলে: ভিডিও ধারণ করতে গেলে ইফতেখার সোহান সিফাত, আসাদুজ্জামান খান ও হারুন ইসলামকে বাধা দেওয়া হয় এবং তারা হেনস্তার শিকার হন।
শহীদুল্লাহ হলে: গভীর রাতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মানজুর হোছাইন মাহি, নাইমুর রহমান ইমন ও সজীব মিয়া হুমকির মুখে পড়েন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সরাসরি এই হেনস্তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনার কারণে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।